স্থানীয় সরকার প্রকৌশল অধিদপ্তর গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ সরকার
মেনু নির্বাচন করুন
Text size A A A
Color C C C C
সর্ব-শেষ হাল-নাগাদ: ১৬ জুলাই ২০১৯

প্রকৌশলী কামরুল ইসলাম সিদ্দিক, প্রধান প্রকৌশলী, স্থানীয় সরকার প্রকৌশল অধিদপ্তর (এলজিইডি)

এক নজরে প্রকৌশলী কামরুল ইসলাম সিদ্দিক:

জীবন ও কর্ম

গ্রামীণ অবকাঠামো উন্নয়ণের রূপকার কামরুল ইসলাম সিদ্দিক ১৯৪৫ সালের ২০ জানুয়ারি কুষ্টিয়ায় জন্মগ্রহণ করেন৷ পিতা কৃষিচিন্তক প্রয়াত নূরুল ইসলাম সিদ্দিক এবং রত্নগর্ভা মা বেগম হামিদা সিদ্দিকের দ্বিতীয় সন্তান সিদ্দিকের শৈশব ও শিক্ষা জীবনের প্রথম অধ্যায় কাটে লালন শাহ, রবীন্দ্রনাথ এবং মীর মশাররফ হোসেনের স্মৃতিধন্য কুষ্টিয়ায়৷
মেধাবী সিদ্দিক ১৯৬৬ সালে বুয়েট থেকে সিভিল ইঞ্জিনিয়ারিং ডিগ্রি লাভ করেন৷ ১৯৬৭ সালে জেলা পরিষদের সহকারী প্রকৌশলী হিসেবে জন্মশহর কুষ্টিয়াতেই তিনি কর্মজীবন শুরু করেন৷ একাত্তরের ৩০ এপ্রিল তিনি মহান মুক্তিযুদ্ধে যোগ দেন৷ পরে ভারতের 'বেতাই' ইয়ুথ ক্যাম্পে আশ্রয় গ্রহণ করেন৷ বৃহত্তর কুষ্টিয়া এবং পাবনা অঞ্চল নিয়ে গঠিত জোনাল কাউন্সিলের অন্যতম সহযোগী যোদ্ধা হিসেবে তিনি মুক্তিকামী যুবকদের সংগঠিত করে প্রাথমিক শিক্ষা ও প্রশিক্ষণ প্রদান করেন৷
'জোনাল ইঞ্জিনিয়ার' হিসেবে রাস্তা, ব্রিজ-কালভার্টের নকশা প্রণয়ন করে অপারেশনে সক্রিয়ভাবে সহযোগিতা করেন৷ ১৯৭৭ সালে যুক্তরাজ্যের শেফিল্ড বিশ্ববিদ্যালয় থেকে তিনি আরবান এন্ড রিজিওন্যাল প্ল্যানিংয়ে মাস্টার্স ডিগ্রি অর্জন করেন৷ দীর্ঘ তিন যুগ তিনি ওয়ার্কস প্রোগ্রামের উপ-প্রধান প্রকৌশলী, এলজিইবির প্রকৌশল উপদেষ্টা এবং এলজিইডির প্রতিষ্ঠাতা প্রধান প্রকৌশলী হিসেবে গ্রামীণ অবকাঠামো উন্নয়নে নিরলস পরিশ্রম করেছেন এবং গ্রামীণ অবকাঠামো উন্নয়নের মডেল হিসেবে এলজিইডিকে বিশ্বদরবারে উপস্থাপন করেছেন৷
১৯৯৯ সালের মে মাসে পিডিবির চেয়ারম্যান হিসেবে যোগদানের পূর্বপর্যন্ত প্রায় ৩৩ বছর উল্লেখিত পদসমূহে নিরলস দায়িত্ব পালন এবং গ্রামীণ অবকাঠামো উন্নয়নে ব্যাপক অবদান রেখে অবকাঠামো উন্নয়নের প্রবাদপুরুষে পরিণত হন৷ তিনি নগর ও আঞ্চলিক পরিকল্পনাবিদ হিসেবে খ্যাতি অর্জন করেন৷ কৃষি ক্ষেত্রে শুষ্ক মৌসুমে পানি সংরক্ষণ করে ইরি চাষের মাধ্যমে দেশের খাদ্যচাহিদা পুরণে অংশগ্রহণমূলক পানি ব্যবস্থাপনার ধারণায় তিনি বাংলাদেশে Ruber Dam স্থাপন এবং এই প্রযুক্তিকে জনপ্রিয় করেন৷
জেলা-উপজেলা-ইউনিয়নসমূহের Base Map প্রস্তুতির জন্য Geographic Information System (GIS) চালু করে তথ্য মাধ্যমে বিপ্লব সাধন করেন৷ জাইকার সাহায্যপুষ্ট আদর্শ গ্রামীণ উন্নয়ন প্রকল্প (MRDP) সহ গ্রামীণ রাস্তা, সেতু, সেচ ও নিষ্কাশন ব্যবস্থা, প্রাথমিক বিদ্যালয়, সমাজ উন্নয়ন ও সমবায় ট্রেনিং সেন্টার নির্মাণ, জরুরি দুর্যোগ প্রশমন কর্মসূচির আওতায় প্রয়োজনীয় বহুমুখী ঘূর্ণিঝড় আশ্রয়কেন্দ্র নির্মাণে তিনি সময়োপযোগী পদক্ষেপ গ্রহণ করেন৷ তিনি বিশ্বব্যাংক, Asian Development Bank, JBIC, KFW, Saudi Development Fund, OPEC Fund-এর সহায়তায় বহু প্রকল্প গ্রহণ এবং বাস্তবায়ন করেন৷ শীর্ষস্থানীয় উন্নয়ন সহযোগী প্রতিষ্ঠান-JICA, USAID, SIDA, SDC, DANIDA, NORAD, UNDP সহ অন্যান্য প্রতিষ্ঠানের আর্থিক সহায়তায় বহু উন্নয়নমূলক কাজ সম্পন্ন করেন৷
প্রয়াত কামরুল ইসলাম সিদ্দিক তাঁর দীর্ঘ কর্মময় জীবনে দেশে-বিদেশে অসংখ্য সভা-সেমিনারে অংশগ্রহণ করেছেন এবং লদ্ধজ্ঞাণ দেশের অবকাঠামো উন্নয়ণের কাজে ব্যবহার করেছেন৷ রিসোর্স-পার্সন হিসেবে তিনি ভারতের ব্যাঙ্গালোরে শক্তিখাত পুনর্গঠন ও বেসরকারিকরণ সেমিনার, কাঠমান্ডুতে অনুষ্ঠিত দক্ষিণ এশিয়ান শক্তি বিষয়ক সেমিনার, সরকারি প্রতিনিধি দলের সদস্য হিসেবে এশিয়ান উন্নয়ন ব্যাংকের সাথে ১০ম পাওয়ার প্রকল্প পরিদর্শন, জার্মানির সাথে দ্বি-পক্ষীয় পরামর্শসংক্রান্ত সভা, কলম্বোয় অনুষ্ঠিত SASTAC সভা, নেদারল্যান্ডস-এর আমস্টার্ডামে অনুষ্ঠিত Sustainable Development of Deltas, SDD 98 শীর্ষক আন্তর্জাতিক সভা, সুইডেনের স্টকহোমে অনুষ্ঠিত Consultative Group of the Global Water Partnership -এর বার্ষিক সভা, ফিলিপাইনের ম্যানিলায় অনুষ্ঠিত ৩য় গ্রামীণ অবকাঠামো উন্নয়ন প্রকল্প ১০ চুক্তি সংযোগকারী, যুক্তরাষ্ট্রের ওয়াশিংটন ডিসিতে বিশ্বব্যাংকের প্রধান কার্যালয়ে গ্রামীণ অবকাঠামোর ওপর অনুষ্ঠিত আন্তর্জাতিক সভা, ইতালির রোমে অনুষ্ঠিত Agricultural Diversification and Intensification -এ চুক্তি সংযোগকারী, ফিলিপাইনের ম্যানিলায় অনুষ্ঠিত TA 2564 BAN : Small Scale Water Renounces Beneficially Participation and Project Management-এর চুক্তি সংযোগকারী, Rural Roads Maintenance and Improvement Project-এ ঋণ চুক্তি সংযোগকারী হিসেবে বিশ্বব্যাংকের প্রধান কার্যালয় ওয়াশিংটন ডিসি গমন, মালয়েশিয়ার কুয়ালালামপুরে অনুষ্ঠিত Preparation for the Ministerial Conference of Infrastructure-এর Expert Group Meeting -এ যোগদান, ফিলিপাইনের ম্যানিলায় অনুষ্ঠিত 'RETA-5646-Urban Infrastructure Finance' শীর্ষক সেমিনারে যোগদান, সৌদি আরবের রিয়াদে অনুষ্ঠিত সৌদি সাহায্যে পরিচালিত প্রকল্পগুলোর পর্যালোচনা সভায় যোগদান, নেদারল্যান্ডস-এর হেগে অনুষ্ঠিত International Union of Local Authorities (IULA)-এর ৩২তম বিশ্ব কংগ্রেস 'বিকেন্দ্রীকরণ' সেশনে চেয়ারম্যান হিসেবে যোগদান, দক্ষিণ আফ্রিকার প্রিটোরিয়ায় অনুষ্ঠিত 'Road Maintenance Initiative Dissemination' শীর্ষক সেমিনারে যোগদান, যুক্তরাষ্ট্রের অ্যারিজোনা, ফিনিক্স ৮ম Road Federation (IRF) Executive Conference-এ যোগদান, ঢাকায় LGED ভবনে অনুষ্ঠিত Stake Holder Consultation on Bangladesh Water Vision for 2025 ঢাকায় অনুষ্ঠিত প্রথম Asian Technical Advisory Committee ISASTAC-এর Global Water Partnership-এর সভা, Regional Expert Consultation on Integrated Water Renounces বিষয়ক সেমিনার, বাংলাদেশের কক্সবাজারে অনুষ্ঠিত দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা সমন্বয় শীর্ষক প্রথম জাতীয় কর্মশালায় যোগদান, চীনের বেইজিংয়ে অনুষ্ঠিত 'Food Aid for Development in Asia and the Pacific Region' শীর্ষক ৩০তম WFP কনফারেন্সে যোগদান, আফ্রিকার মালাউয়িতে অনুষ্ঠিত 'International Forum for Rural Transport and Development' (IFRTD) শীর্ষক আফ্রিকা অঞ্চলের আঞ্চলিক কনফারেন্সে এশিয়া অঞ্চলের প্রতিনিধি হিসাবে যোগদান, বাংলাদেশ সরকার ও UNICEF প্রতিনিধি দলের সদস্য হিসেবে 'ওরাঙ্গ পাইলট প্রজেক্ট' এবং করাচির 'আগা খান বিশ্ববিদ্যালয়' পরিদর্শন, ILO-এর আনুকূল্যে 'Donors Support Meeting for Special Public Works Programme'-এ বাংলাদেশ সরকারের প্রতিনিধি হিসেবে জেনেভায় গমন, যুক্তরাজ্যের ক্যামব্রিজে অনুষ্ঠিত 'Advanced Management Training'-এ যোগদান, দক্ষিণ কোরিয়ার সিউলে অনুষ্ঠিত 'Rural Center Planning'-এর ওপর আন্তর্জাতিক সেমিনারে যোগদান, কমনওয়েলথ ফাউন্ডেশনের পৃষ্ঠপোষকতায় কুমিল্লার বার্ডে অনুষ্ঠিত আন্তর্জাতিক সেমিনারে 'সমন্বিত গ্রামীণ উন্নয়ন'-এ যোগদান, 'বার্ড' UNDP-ILO কুমিল্লা কর্তৃক আয়োজিত 'Labour Intensive Public Works Program' বিষয়ের ওপর উপ-আঞ্চলিক কর্মশালায় যোগদান এবং ট্রেনিং পরিচালনাসহ শতাধিক আন্তর্জাতিক সেমিনারে অংশগ্রহণ করেছেন এবং বাংলাদেশের গ্রামীণ অবকাঠামো উন্নয়নের সাফল্য বিশ্বদরবারে মডেল হিসেবে উপস্থাপন করেছেন৷ জনাব সিদ্দিক তাঁর পেশাগত দায়িত্ব পালন ছাড়াও বহু সামাজিক কর্মকাণ্ডের সাথে জড়িত ছিলেন৷

প্রয়াত সিদ্দিক Bangladesh Power Development Board-এর সভাপতি, Bangladesh Renewable Energy Association-এর সভাপতি, Bangladesh Forum for Urban Development-এর সভাপতি, Engineering Staff College of Bangladesh-এর Governing Body-এর Conveyor, আহ্ছানিয়া মিশন ক্যান্সার হাসপাতাল নির্মাণ কমিটির সভাপতি, সিদ্দিক'স ফাউন্ডডেশন, কুষ্টিয়ার সভাপতি, বেগম হামিদা সিদ্দিক কলেজিয়েট স্কুলের সভাপতি, ঢাকাস্থ কুষ্টিয়া জেলা সমিতির সভাপতি, গুলশান সোসাইটির সহ-সভাপতি, Eye Care Society-এর সহ-সভাপতি, কাজী আবু মোকাররম ফজলুল বারী ইসলামিক ফাউন্ডেশন সেন্টারের উপদেষ্টা ও ২০০২-'০৩ মেয়াদে ইনস্টিটিউশন অব ইঞ্জিনিয়ার্স, বাংলাদেশের (আইইবি) তিনি নির্বাচিত সভাপতির দায়িত্ব পালন করেন৷
তিনি BMSRI এবং BIRDEM-এর আজীবন সদস্য৷ স্ত্রী সাবেরা সিদ্দিক একজন দায়িত্ববান গৃহিণী হিসেবে সবসময়ই স্বামীর কর্মকাণ্ডে অনুপ্রেরণা দিয়েছেন৷ একমাত্র ছেলে সাইফুল ইসলাম সিদ্দিক আইটি বিশেষজ্ঞ৷ বড় মেয়ে আরিফা সিদ্দিক ব্যবসায় প্রশাসনে উচ্চশিক্ষিত, মেজো মেয়ে মারেফা সিদ্দিক যুক্তরাষ্ট্র থেকে চিকিত্‍সা বিজ্ঞানে স্নাতক ডিগ্রী অর্জন শেষে বর্তমানে উচ্চশিক্ষায় পাঠরত৷ ছোট মেয়ে তাসনিমা সিদ্দিক ব্র্যাক ইউনিভার্সিটিতে আইন বিষয়ে পড়ছেন৷ বড়জামাই হুমায়ূন কবীর বাবলু বেঙ্গল প্লাস্টিক লিঃ এর ব্যবস্থাপনা পরিচালক এবং আরটিভির পরিচালক৷
ধর্মপরায়ণ ও সংস্কৃতিবান কামরুল ইসলাম সিদ্দিক ছিলেন প্রকৃতিপ্রেমী অন্তপ্রাণ৷ লালনসঙ্গীত ছিল তাঁর অবসরের প্রিয় শ্রবণ৷ তিনি আমৃতু্য কুষ্টিয়াস্থ বারোশরীফ দরবার ও মসজিদ কমিটির প্রধান উপদেষ্টা হিসেবে আধ্যাত্মবাদের মর্মবাণী প্রচারে আকুল ছিলেন৷
কাজের উল্লেখযোগ্য অবদানের স্বীকৃতিস্বরূপ প্রয়াত এই গুণি প্রকৌশলী ভাসানী স্বর্ণপদক (১৯৯৫), কবি জসীম উদ্দীন স্বর্ণপদক (১৯৯৫), আইইবি স্বর্ণপদক (১৯৯৮), সিআর দাস স্বর্ণপদক (১৯৯৯), আব্বাস উদ্দীন স্বর্ণপদক (১৯৯৯), শেরেবাংলা স্বর্ণপদক (২০০০), বঙ্গবন্ধু প্রকৌশলী স্বর্ণপদক (২০০০), জাইকা মেরিট অ্যাওয়ার্ড (২০০০), বিএসিই সিলভার জুবিলি অ্যাওয়ার্ডসহ অসংখ্য পুরস্কারে ভূষিত হয়েছেন৷ যুক্তরাষ্ট্রের ইনস্টিটিউট অব সিভিল ইঞ্জিনিয়ার্স ফেলোশিপ অ্যাওয়ার্ডধারী প্রকৌশলী সিদ্দিককে বাংলাদেশের সড়ক যোগাযোগের ক্ষেত্রে উল্লেখযোগ্য অবদানের জন্য বিশ্বব্যাংক ১৯৯৯ সালে ইন্টারন্যাশনাল রোড ফেডারেশন কতর্ৃক পার্সন অব দ্য ইয়ারএ ভূষিত হন৷ ২০০৩-২০০৪ মেয়াদে কামরুল ইসলাম সিদ্দিক Global Water Partnership-South Asia Region-এর প্রথম চেয়ারপার্সন নির্বাচিত হন৷
উন্নয়ণব্যাক্তিত্ব কামরুল ইসলাম সিদ্দিক ১ সেপ্টেম্বর ২০০৮ যুক্তরাষ্ট্রে তার ছেলের বাসভবনে হৃদযন্ত্রের ক্রিয়া বন্ধ হয়ে মৃতু্যবরণ করেন৷ মৃতু্যকালে তার বয়স হয়েছিল ৬৩ বছর৷ মৃতু্যর পূর্ব পর্যন্ত Bangladesh Water Partnership (BWP) এবং Bangladesh National Forum for Rural Transport Development-এর প্রেসিডেন্টের নির্ধারিত দায়িত্ব পালনসহ এলজিইডির সার্বিক উন্নয়ণমূলক কর্মকাণ্ডের সঙ্গে নিজেকে সম্পৃক্ত রেখে এলজিইডির সকল কর্মকর্তা-কর্মচারীদের আত্মার ভালোবাসায় জারিত হয়েছেন৷
রবীন্দ্রনাথের- মানুষ নির্মাণ করে প্রয়োজনে, সৃষ্টি করে আনন্দে, বুদ্ধির পরিচয় দেয় জ্ঞানে, যোগ্যতার পরিচয় দেয় কৃতিত্বে, নিজের পরিচয় দেয় সৃষ্টিতে৷ কামরুল ইসলাম সিদ্দিক ছিলেন এই মর্মবাণীর প্রতিবিম্ব৷ তাঁর তত্ত্বাবধানে ঐতিহাসিক রেসকোর্স ময়দানের একাংশে মুক্তিযুদ্ধের ভাস্কর্য নির্মাণ কাজ শুরু হয়েছিল কিন্তু সময়াভাবে তিনি সেই মহান কাজটি নিজ দায়িত্বে সম্পন্ন করে যেতে পারেননি৷ ঢাকা শহরের বিধ্বস্ত আইল্যান্ড, জীর্ণ ফুটপাত, অবৈজ্ঞানিক ট্রাফিক, শীর্ণ গাছের অন্তর কান্না, দুর্বল সিগন্যাল ব্যবস্থা, অপ্রয়োজনীয় গোলচক্কর, নিয়ন বাতির স্বল্পতা- তিনি ঢাকা ট্রন্সপোর্ট কো-অর্ডিনেশন বোর্ডের চেয়ারম্যানের দায়িত্ব নিয়ে এই দৃশ্যপট পরিবর্তনে অনবদ্য ভূমিকা পালন করেছিলেন৷ তাঁর ছোঁয়ায় এলজিইডির মাধ্যমে বাংলাদেশের গ্রামীণ অবকাঠামো উন্নয়ন বিশ্বে একটি মডেল হিসেবে বিবেচিত হয়েছে৷
তাঁর সুদক্ষ পরিচালনায় পিডিবি পেয়েছিল নতুন আলোর সন্ধান, তাঁর যুগোপযোগী কর্মকাণ্ডে পূর্ত মন্ত্রণালয় জেগে উঠেছিল নতুন স্বপ্নের আবির নিয়ে; সবশেষে প্রাইভেটাইজেশন কমিশনের কর্মকাণ্ড নিয়েও নতুনভাবে চিন্তার সূত্রপাত করেছিলেন৷ সেই ব্যক্তিত্বের মৃতু্যতে দেশ-জাতি সর্বোপরি এলজিইডি পরিবার এক মহান সুহৃদকে হারলো৷ এই ক্ষতি পুরণ হবার নয় ৷ এই ক্ষত শুকাবার নয়৷ তবে তিনি আমাদের সবার হৃদয়ে বেঁচে থাকবেন চিরদিন, চিরকাল৷ আমরা তাঁর আত্মার শান্তি কামনা করছি এবং শোকসন্তপ্ত পরিবারকে গভীর সমবেদনা জানাচ্ছি৷


Share with :

Facebook Facebook